:
Breaking News

শিক্ষার বয়স নেই, চাকরির কেন?’: বয়সসীমার গ্যাঁড়াকলে পিষ্ট লাখো তরুণের স্বপ্ন

top-news
https://thedailyjibonbanglanews.com/public/frontend/img/post-add/add.jpg

“শিক্ষা গ্রহণের কোনো বয়স নেই”— শৈশব থেকে শুনে আসা এই চিরন্তন বাণীটি বাস্তবতার মাটিতে এসে এক নির্মম পরিহাসে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা অর্জনের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত হলেও, পড়াশোনা শেষ করে রুটি-রুজির সংস্থানে চাকরির দরজায় কড়া নাড়তেই তরুণেরা মুখোমুখি হচ্ছেন ‘বয়সসীমা’ নামক এক কঠোর দেয়ালের। সরকারি ও বেসরকারি খাতের এই বয়সভিত্তিক নিয়মের কারণে দেশজুড়ে শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেরিতে ডিগ্রি অর্জন করেও শুধু জন্মতারিখের অপরাধে চাকরির পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাচ্ছেন না লক্ষাধিক মেধাবী তরুণ-তরুণী।

​সম্প্রতি বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ৩০ বা ৩২ বছরের ঊর্ধ্বসীমা বহাল রাখায় এই বিতর্ক ও অসঙ্গতিটি নতুন করে সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩৫ বছর বয়সী এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন,

​“পরিবারের অভাব-অনটনের হাল ধরতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সে স্নাতক শেষ করেছি। এখন স্নাতকোত্তর পড়ছি। কিন্তু চাকরির আবেদন করতে গিয়ে দেখি আমার বয়স শেষ! এটা কেমন নিয়ম? শিক্ষা যদি সারাজীবনের প্রক্রিয়া হয়, তবে কর্মসংস্থান কেন বয়সের ফ্রেমে বন্দি থাকবে?”

​বাস্তব চিত্র: বৈষম্যের শিকার প্রান্তিক ও দরিদ্ররা

​সমাজ ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই বয়সভিত্তিক বাধ্যবাধকতা সবচেয়ে বেশি আঘাত করছে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের সন্তানদের। গ্রামাঞ্চলে বা অনগ্রসর পরিবারে অর্থাভাব, সেশনজট ও পারিবারিক সংকটের কারণে অনেকেই সময়মতো পড়াশোনা শেষ করতে পারেন না। পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রমে ডিগ্রি অর্জন করলেও বয়সসীমা তাদের সামনে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি অনেকেও ‘ফ্রেশার’ বা নতুনদের খোঁজার নামে ২৮-৩০ বছরের মধ্যে বয়স বেঁধে দিচ্ছে, যা বৈষম্যকে আরও উসকে দিচ্ছে।

​বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল করিম এই বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন,

​“শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে এই বয়সভিত্তিক বিভাজন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা অত্যন্ত নমনীয় কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারেই নেই। আমাদের দেশে এখনও সেই ঔপনিবেশিক আমলের মানসিকতা ও কঠোর নিয়ম ধরে রাখা হয়েছে, যা দ্রুত পরিবর্তন হওয়া দরকার।”

​সামাজিক মাধ্যমে ঝড়: নমনীয়তার জোরালো দাবি

​এই বৈষম্যমূলক নিয়মের বিরুদ্ধে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তুমুল ঝড় উঠেছে। ভুক্তভোগী ও চাকরিপ্রার্থীরা #বয়সসীমা_বাতিল এবং #শিক্ষার_বয়স_নেই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে তাঁদের অধিকারের দাবি জানাচ্ছেন। সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের দাবি— সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ন্যূনতম ৪০ বছর করা হোক অথবা বয়সসীমা পুরোপুরি তুলে দিয়ে মেধা ও অভিজ্ঞতাকে মূল মাপকাঠি ধরা হোক।

​কিছু কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বয়সসীমা শিথিল করার পথে হাঁটলেও, সরকারি খাতে পরিবর্তনের গতি এখনও মন্থর। হতাশাগ্রস্ত এক বেকার যুবকের সরল প্রশ্ন,

​“আমি দিন-রাত এক করে পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জন করলাম। এখন শুধু আমার জন্ম তারিখের কারণে আমি অযোগ্য? এটা তো মেধার স্বীকৃতি নয়, বরং এক ধরনের শাস্তি।”

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি পর্যায় থেকে এখনও দৃশ্যমান কোনো বড় সিদ্ধান্ত না এলেও, বয়সসীমা পুনর্বিবেচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষ থেকে একের পর এক লিখিত আবেদন জমা পড়ছে।

​মেধাবীদের এই দীর্ঘশ্বাস আর কতদিন? দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীর ভাগ্য এখন ঝুলে আছে এই একটি প্রশ্নের ওপর— রাষ্ট্র কি এই যুগোপযোগী পরিবর্তনের পথে হাঁটবে, নাকি ঔপনিবেশিক নিয়মের বেড়াজালেই আটকে থাকবে লাখো তরুণের স্বপ্ন?

https://thedailyjibonbanglanews.com/public/frontend/img/post-add/add.jpg

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *